আপনার কি শৈশবের অস্পষ্ট হলেও কোন স্মৃতি আছে, যেখানে আপনার মা এক গ্লাস দুধ এবং কয়েকটা বাদাম ভিজিয়ে আপনার পিছনে দৌড়াতেন? কেন করতেন এই কাজ জানেন? মূলত: বাদামের পুষ্টিগুণ আপনাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর করে তুলে। আপনার সুস্থতার জন্য আশীর্বাদ এই বাদাম।

এতদিন মানুষ এ বিষয়ে তেমন খেয়াল না করলেও করোনা পরবর্তীতে বিকল্প তেলের সন্ধান করতে গিয়েই জানা যাচ্ছে বাদাম তেলের অপার মহিমা। জানা যাচ্ছে মায়ের ভালোবাসার সেই দুধ-বাদাম খাওয়ানোর রহস্য! আমরা সেভাবে বুঝতে না পারলেও গ্রামের মায়েরা কিন্তু ঠিকই জানতেন বিষয়টি।

রান্নার কাজে ব্যবহার করা ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ত্বক ও চুলের যত্নে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই বাদাম তেল! ত্বক এবং চুলের জন্য কোন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় এ তেলের ব্যবহার বাড়ছেই। বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট তো বটেই বড়দের চিন্তাশক্তি, কর্মক্ষমতায় ক্লান্তিহীনতার সময় বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি।

তবে, স্বাস্থ্য উপকারিতা শুধু বাদাম তেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাদামের বাটারও আমাদের খাদ্য তালিকায় নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করলে মিলবে প্রচুর উপকার। যদিও এই বাদাম বাটার কিছুটা ব্যয়বহুল। তাই, বাবা-মায়ের প্রিয় বাবু টার ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট এর স্বার্থে এ পোস্টের শেষে পিনাট বাটার নিয়েও থাকছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।

চলুন জেনে নিই বাদাম কীভাবে আপনার চুল, ত্বক, মস্তিষ্ক এবং সামগ্রিক শরীরে উপকার করে-

– বাদাম তেল এর বহুমুখী ব্যবহার –

১। এ তেল ফ্যাট ও কোলেস্টেরল মুক্ত হওয়ায় ভোজ্য তেল হিসেবে নিয়মিত রান্নার মতোই ব্যবহার করা যায়।

২। এই তেল ভিটামিন ই, ফ্যাটি এসিড এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ।

৩। এ তেল কোন রকম প্রসেস ছাড়াই চুল ও ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যায়।

৪। চুল ও ত্বকের স্পশাল যত্নের জন্য আলাদাভাবে প্রসেসকৃত পিনাট ওয়েলের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না এবং এটি অধিক ভালো ফল দেয়।

৫। চুলের ড্যানড্রাফ এর সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

৬। মাথার ত্বকের রক্ত চলাচল সঠিক রাখে, চুলের পুষ্টি যোগায়, চুলের গোড়া মজবুত করে।

৭। নিয়মিত ব্যবহারে চুল হয়ে উঠে সিল্কি, স্থায়ীভাবে। চুল শাইনি করে, গোড়া থেকে চুল ভাঙ্গা রোধ করে।

যেভাবে এবং যেসব রোগে শরীরের উপকার করে এ পিনাট/বাদাম-

হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে

বাদাম তেল মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এগুলো আপনার হার্টে র স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়মিত বাদাম তেল সেবন করলে স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে

বাদাম তেল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং আপনার শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করে

বাদাম তেল ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি দুর্দান্ত উৎস এবং এতে পটাসিয়ামও রয়েছে। পটাসিয়াম আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে পুষ্ট করে এবং সরাসরি আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। সেরা ফলাফলের জন্য আপনি বিছানায় যাওয়ার আগে এক গ্লাস দুধে কয়েক ফোঁটা বাদাম তেল মিশিয়ে নিতে পারেন।

হাড়ের বিকাশ
বাদাম ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়ামের একটি দুর্দান্ত উৎস। বলা বাহুল্য, এটি আপনার হাড় মজবুত করার জন্য খুবই উপকারী। শুধু আপনার হাড় এবং জয়েন্টগুলোতে কয়েক ফোঁটা বাদাম তেল মালিশ করুন এবং অনেক ক্ষেত্রে আপনি বাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

মানসিক চাপ এবং ব্যথা উপশম করে

বাদাম তেলের থেরাপিউটিক বৈশিষ্ট্যও রয়েছে এবং এটি পেশীতে চাপ ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আপনি কয়েক টেবিল চামচ বাদাম তেল গরম করতে পারেন এবং এটি গরম হয়ে গেলে আক্রান্ত স্থানে সরাসরি ম্যাসেজ করুন। নিয়মিত এটি করা আপনার পেশীর শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং এটি একটি দুর্দান্ত পেশী শিথিলকারীও হতে পারে।

নখের যত্ন
ভঙ্গুর নখ একটি সাধারণ সমস্যা। এই সমস্যার মুখোমুখি সবাইকে কম বেশি হতে হয়। তবে বাদাম তেল আপনার এই সমস্যা সহজেই দূর করতে পারে। সুস্থ ও মজবুত নখের জন্য প্রতিদিন কয়েক ফোঁটা বাদাম তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এগুলোতে পটাসিয়াম এবং জিঙ্কের একটি শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং তারা আপনার নখগুলোকে হাইড্রেট করে এবং তাদের শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যকর রাখে।

চুলের যত্ন

বাদাম আপনার চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো। অনেকেই চুল মজবুত করার জন্য বাদাম তেল ব্যবহার করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বাদাম চুলকে মজবুত, স্বাস্থ্যকর এবং কালো করতে সাহায্য করে।

ত্বকের যত্ন

বাদামের তেল ত্বকের জন্য খুবই ভালো। কারণ এই তেল ত্বকের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। বাদাম তেল ভিটামিন–ই সমৃদ্ধ যা আপনার ত্বককে ময়শ্চারাইজ করতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন ত্বকের রোগ যেমন: ব্রণ, পিম্পল ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন বাদাম তেল ব্যবহার আপনাকে পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল ত্বক বজায় রাখতে সাহায্য করে। ব্রণ, পিম্পল ইত্যাদি প্রতিরোধ এবং ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে।

 

পিনাট বাটারের আদ্যোপান্ত সংক্ষেপে

বিভিন্ন প্রকার পিনাট বাটার হয়ে থাকে। যেমন – চীনাবাদাম বাটার, আলমন্ড বাটার, কাজুবাদাম বাটার, ওয়ালনাট বাটার ইত্যাদি। তবে চিনা বাদাম ছাড়া অন্যান্য বাদামের বাটার অত্যন্ত দামী হওয়ায় সেটা বাজারে কম চলে। তবে, উৎসাহ সহ বিভিন্ন কোম্পানি চিনা বাদামের সাথে মিক্স আকারে নিয়ে এসেছে।

 

চিনা বাদামের বাটার (যা বাজারে পিনাট বাটার নামেই পরিচিত) তৈরিতে সাধারণত মেশিনের কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে সামান্য তেল মিক্স করা হয়। অনেক কোম্পানি সয়াবিন তেল কেউ পাগল মিস করে থাকেন।

 

তবে যেহেতু এটা হাই ভ্যালু প্রোডাক্ট এবং অনেক স্বাস্থ্যগত ব্যাপার থাকে, তাই অন্য কোন তেল ব্যবহার না করে FDA Standard অনুসারে বাদাম তেল ব্যবহার করাটাই সর্বোত্তম উপায়। এক্ষেত্রে বাদাম তেলের ব্যবহার ব্যতিত অন্য তেল ব্যবহার করে তৈরি করা পিনাট বাটার না খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

 

সুস্বাস্থ্যের জন্য যে ধরনের পিনাট বাটার খাওয়া ভালো-

১. চীনাবাদাম এর পিনাট বাটার: দামে কম ও সহজলভ্য।

২. চিনাবাদাম ও কাজুবাদাম মিশ্রিত পিনাট বাটার: দামে বেশি, তবে অধিক উপকারী।

৩. মিক্সড পিনাট বাটার: চীনাবাদাম, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, আখরোট মিশ্রিত পিনাট বাটার: দামে একটু বেশি এবং অধিকতর উপকারী। বাদামের মধ্যে ওয়ালনাট বা আখরোট সবচেয়ে বেশি বাচ্চাদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট স্টেইজ এর জন্য উপকারী।‌

 

এ বাটার আপনি বাইরে থেকে না কিনেও নিজের বাড়িতেও তৈরি করে বানিয়ে বাচ্চাদের খাওয়াতে পারেন, খুবই সিম্পল উপায়ে খুব সহজে। সে বিষয়ে আসছে পরবর্তী লেখা, শীঘ্রই।

বাদাম সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত ও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করে গ্রুপে জয়েন করুন।

Peanut Oil and Butter: https://www.facebook.com/groups/1896238254061581/?ref=share_group_link

সূত্র: লাইব্রেট, সময় সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published.

0
X